বায়োমিল ১ ও ২ খাওয়ার নিয়ম - বায়োমিল ১ ও ২ এর দাম কত


ছোট্ট নবজাতক শিশুদের জন্য বায়োমিল প্রধান খাবার। অর্থাৎ মায়ের বুকের দুধ যখন নবজাতকেরা পায় না তখন ডাক্তাররা বায়োমিল সাজেস্ট করে থাকেন, মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে। আমরা অনেকেই বায়োমিল ১ ও ২ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানিনা। আবার বায়োমিল ১ ও ২ এর দাম কত সেটাও আমাদের কাছে অজানা।

তাইতো আজকের আর্টিকেলটিতে আমি আলোচনা করেছি বায়োমিল সম্পর্কে বিস্তারিত। আপনারা যারা বায়োমিল সম্পর্কে জানতে চান। তারা আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন, আশা করছি আশা জনক উত্তর পেয়ে যাবেন।

ভূমিকা

ছোট্ট নবজাতক শিশুদের জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই। কিন্তু সেই মায়ের দুধ যখন বাচ্চারা পায় না ।তখন ডাক্তাররা বাচ্চাদের জন্য সাজেস্ট করে থাকেন মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে বায়োমিল। আমরা যখন জানিনা যে বায়োমিল খাওয়ানোর নিয়ম কি বা এর দাম কত? তখন আমরা পড়ে যাই টেনশনে। বন্ধুরা টেনশনের কোন কারণ নেই। আমরা যারা জানি না বায়োমিল সম্পর্কে তারা এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ি। তাহলে বায়ো মিল্ক ১ ও ২ খাওয়ার নিয়ম এবং বায়োমিল্ক ১ ও ২এর দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যাবেন।

বায়োমিল ১ খাওয়ানোর নিয়ম

শিশুদের মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে বায়োমিল ১ খাওয়ানো হয়। যেহেতু বায়োমিল পাউডার জাতীয় তাই এটি শিশুদের খাওয়ানোর সময় বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। মূলত শূন্য থেকে ছয় মাসের বাচ্চাদের জন্য বায়োমিল তৈরি হয়। যেহেতু বায়নের একটি পাউডার জাতীয় তাই এটি বাচ্চাদের খাওয়ানোর আগে ভালোভাবে এর নিয়ম কানুন বুঝে নিতে হবে। চলুন নিম্নে বায়োমিল ১ খাওয়ানোর নিয়ম জেনে নিই।

  • নবজাতক অর্থাৎ ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চাদের বায়োমিল ১ এই পাউডারটি হালকা গরম পানিতে দুই থেকে তিন চামচ মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। তবে অবশ্যই সতর্ক রাখতে হবে যেন পানিটি বেশি গরম না হয় ।এতে করে বাচ্চাদের ক্ষতি হতে পারে। আর এই দুটি বাচ্চাদের প্রতিদিন দিনে ৬ বার খাওয়া তো যেতে পারে।
  • ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের বাচ্চাদের বায়োমিল ১ পাউডার চার চা চামচ করে হালকা কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে দৈনিক পাঁচবার খাওয়ানো যেতে পারে।
  • বাচ্চাদের বয়স দুই মাস হয়ে গেলে বায়োমিল ১ খাওয়ানোর নিয়ম হচ্ছে ,প্রতিবার পাঁচ চা চামচ করে হালকা কুসুম গরম পানিতে পাঁচবার খাওয়াতে হবে প্রতিদিন।
  • বাচ্চার বয়স তিন মাস হলে বায়োমিক এক হালকা কুসুম গরম পানিতে প্রতিবার ছয় চামচ করে প্রতিদিন পাঁচবার খাওয়াতে হবে।
  • বাচ্চার বয়স যখন চার থেকে পাঁচ মাস হয়ে যাবে তখন বায়ো মিল ১ বাচ্চাদের ৭ চা চামচ করে হালকা  কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে পাঁচবার খাওয়াতে হবে।
  • ছয় মাসের বেশি যখন বাচ্চার বয়স হয়ে যাবে তখন বায়োমিল ১ এভাবেই চলতে থাকবে।

বন্ধুরা তাহলে আপনারা অবশ্যই বায়োমিল ১ খাওয়ানোর নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন। তবে বন্ধুরা আপনারা অবশ্যই বাচ্চাদের এটি খাওয়ানোর আগে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়াবেন। এবং তারা যে নিয়মটা বলে দেবে সেটাও ফলো করবেন। আপনাদের যদি এ বিষয়ে আরো কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

বায়োমিল ১ এর দাম কত

আপনারা যারা বায়োমিল ১ এর দাম সম্পর্কে জানতে চান ।তারা আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন ।কারণ আমি এখানে আপনাদের জানাতে চলেছি কত গ্রাম বায়োমিল পাউডারের দাম কত সে সম্পর্কে। যেমন-

  • ১৮০ গ্রাম বায়োমিল ১ পাউডারের প্যাকেটের দাম পড়বে ২২৫ টাকা।
  • ৩৫০ গ্রাম বায়োমিল ১ পাউডারের প্যাকেটের দাম পড়বে ৪৫০ টাকা।

তবে অবশ্যই আপনারা বায়োমিল পাউডারটি কেনার আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ এবং এর দাম কত সে সম্পর্কে জেনে নিবেন।

বায়োমিল ২ খাওয়ার নিয়ম

বন্ধুরা এতক্ষণ আমরা আলোচনা করলাম বায়োমিল ১ খাওয়ার নিয়ম এবং বায়োমিল ১ এর দাম সম্পর্কে। এবার আমরা জানবো বায়োমিল ২ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। মূলত বায়োমিল ২ খাওয়ানো হয়ে থাকে ৬ থেকে ১২ মাস বয়সী বাচ্চাদের। 

বায়োমিল ১ বাচ্চাদের যেভাবে খাওয়ানো হয় ঠিক একইভাবে বায়োমিল ২ বাচ্চাদের খাওয়ানো হয়ে থাকে। তবে বায়োমিল ২ বাচ্চাদের খাবার চাহিদাটা একটু বেশি থাকে।বায়োমিল ১ এর তুলনায় বায়োমিল ২ বাচ্চাদের খাওয়ানোর প্রয়োজন পরে বেশি। অর্থাৎ ৬ থেকে ১২ মাস বয়সী বাচ্চাদের খাওয়ার পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে ।তাই সে অনুযায়ী বায়োমিল ২ বাচ্চাদের দিতে হয়।

বায়োমিল ২ এর দাম কত

ছয় থেকে ১২ মাস বয়সী বাচ্চাদের যে পাউডারটি খাওয়ানো হয়ে থাকে সেটি হল বায়োমিল ২। এবার আপনারা অবশ্যই জানতে চেয়ে থাকবেন যে এটার দাম কত সে সম্পর্কে। তো চলুন আমরা এবার জেনে নেই কত গ্রাম বায়োমিল ২ পাউডারের দাম কত টাকা সে সম্পর্কে।

  • ১৮০ গ্রাম বায়োমিল ২ পাউডারের দাম পড়বে ২২৫ টাকা।
  • ৩৫০ গ্রাম বায়োমিল ২ পাউডারের দাম পড়বে ৪৩৫ টাকা।
  • ৪০০ গ্রামে দুই পাউডারের দাম পড়বে ৫৮০ টাকা

আপনারা যে কোন ফার্মেসি থেকে বায়োমিল ২ কিনতে পারবেন। তবে কেনার আগে অবশ্যই প্যাকেটের নিচে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এবং কত দাম সে সম্পর্কে জেনে নেবেন। এবং ডাক্তারের সাজেশন অনুযায়ী বাচ্চাদের এই পাউডারটি খাওয়াবেন।

বায়োমিল যে দেশের পাউডার

মূলত বেলজিয়ামের তৈরি একটি দুদ্ধজাত পণ্য বায়োমিল পাউডার। অর্থাৎ বাচ্চাদের দুধের বিকল্প হিসেবে যে পাউডারটি দেওয়া হয়ে থাকে সেটি তৈরি হয়ে থাকে বেলজিয়ামে। আর এটি মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে বাচ্চাদের খাওয়ানো হয়। মায়ের দুধের পাশাপাশি বায়োমিল একটি পুষ্টিকর খাবার বাচ্চাদের জন্য।

শেষ কথা

বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে এবং এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনারা কি উপকৃত হয়েছেন অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনারা যদি উপকৃত হয়ে থাকেন এবং আপনাদের যদি এই পোস্টটি কোন কাজে লেগে থাকে তাহলে আমাদের কষ্ট সার্থক। এই আর্টিকেলটি বিষয়ে আপনাদের যদি কোন মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই তা কমেন্ট করে জানিয়ে দেবেন। এ ধরনের আরো অনেক পোস্ট পেতে আমাদের পেজটি ফলো রাখুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url